সভায় বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরাকে ‘এ’ গ্রেড তথা প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। এটি শুধু একটি প্রশাসনিক স্বীকৃতি নয়, বরং সাতক্ষীরার উন্নয়ন, সম্ভাবনা ও অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এ সিদ্ধান্তের ফলে জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বক্তারা আরও বলেন, সাতক্ষীরা একটি সম্ভাবনাময় জেলা। কৃষি, মৎস্য, লবণ শিল্প, পর্যটন এবং সীমান্ত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এ জেলার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে সুন্দরবনের নিকটবর্তী হওয়ায় পর্যটন খাতে সাতক্ষীরার উন্নয়নের বড় সুযোগ রয়েছে। সরকার যদি পরিকল্পিতভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করে, তবে এই জেলা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
তারা উল্লেখ করেন, জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল উন্নয়নের ধারায় সাতক্ষীরাকে আরও অগ্রাধিকার দেওয়া। ‘এ’ গ্রেডে উন্নীত হওয়ার মাধ্যমে সেই দাবির বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে। এতে করে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হবে এবং জেলার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
বক্তারা সরকারের এ যুগান্তকারী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তারা সাতক্ষীরায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা, উন্নত যোগাযোগ অবকাঠামো এবং শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে দৈনিক দক্ষিণের মশাল পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সাংবাদিক শেখ হাসান গফুর, গাজী হাবিব, নাজমুল আলম মুন্না, প্রভাষক নাজমুল হক, শেখ কামরুল ইসলাম, মাগফুর রহমান জান্টু, মোঃ মুনসুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, হাফেজ আবুল হোসেন, আলমুতাছিম বিল্লাহ সবুজ, দেলোয়ার হোসেন, মোহাম্মাদ হাফিজ, রাকিব হোসেন, জাকির হোসেন জনি, সাংবাদিক লাল্টু, মিহিরুজ্জামান বাবু, আব্দুর রশিদ, আতিয়ার রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভার আয়োজন করে সাতক্ষীরা জেলা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন আন্দোলন পরিষদ, সুন্দরবন বিশ্ববিদ্যালয় সাতক্ষীরা জেলা বাস্তবায়ন কমিটি এবং সময়ের দাবী, সাতক্ষীরা সিটি কর্পোরেশন।
আয়োজকরা জানান, সাতক্ষীরার উন্নয়ন ও সম্ভাবনাকে সামনে রেখে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। সভায় জেলার সচেতন নাগরিক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
